কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৯:০৮ PM
কন্টেন্ট: পাতা
কি সেবা কিভাবে পাবেন
ক্রঃ নং | সেবাসমুহ | সেবাদানকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী | মšÍব্য |
১। | অসুস্থ গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান ক) হাঁসপাতাল খ) কৃষকের বাড়ী/খামার/চেম্বারে গ) গবাদি প্রাণিও হাঁস মুরগির নমুনা/গোবর/রক্ত নমুনা পরীÿা ও প্রয়োজনে আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষনাগারে প্রেরন করা। | ভেটেরিনারি সার্জন | (প্রয়োজনে অফিস সময়ের পরে) বিনামুল্যে/নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেÿÿ। |
২। | ক) গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির নমুনা, টিকা বীজ সরবরাহ/বিক্রয় খ) উন্নত জাতের ঘাসের চারা/ কাটিং/বীজ সরবরাহ (প্রাপ্তি সাপেÿÿ) | ইউএলও/ ইউএলএ/ভিএফএ | মুল্য তালিকা মোতাবেক |
৩। | ক) প্রযুক্তি হসত্মামত্মরের নিমিত্বে কৃষক প্রশিÿন গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগি পালন সম্পর্কে প্রশিÿন প্রদান | উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার | প্রকল্পের সংস্থান অনুসারে |
| খ) গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির রোগাক্রামত্ম এলাকা পরিদর্শন/নমুনা সংগ্রহ ও রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। | উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার | প্রকল্পের বিধি মোতাবেক |
| গ)ব্যাক্তিমালিকানাধীন গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির খামার স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরন ও রেজিষ্ট্রেশান করনের ব্যাবস্থা করা | উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার | বিনামুল্যে |
| ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন/জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারী সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির জরম্নরী চিকিৎসা, টিকা দান ও ত্রাণ বিতরন | উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার | বিনামুল্যে সরকারী বিধি মোতাবেক |
| ঙ) উন্নত জাতের গবাদি প্রাণি ও হাঁস মুরগির খামারী/কৃষককে অনুদান প্রদান | ইউএলও/ ইউএলএ/ভিএফএ | সরকার ঘোষিত নীতিমালা মোতাবেক |
| চ)রোগাক্রামত্ম এলাকা চিহ্নিতকরন ও প্রয়োজনীয় টিকা প্রদানের ব্যাবস্থা গ্রহণ | ইউএলও এবং ভি এস | -- |
| ছ)কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র/পয়েন্টে আনিত গাভী প্রজননের ব্যবস্থা গ্রহণ, গর্ভবতী গাভীর গর্ভ পরীÿা করন | এফ, এ (এ,আই)/প্রশিÿন প্রাপ্ত সেচ্ছাসেবক | তরল সিমেন ১৫/- হিমায়ি সিমেন ৩০/ |
সেবা সমুহ
২ | ৩ | |
১ | গবাদিপ্রাণির টিকা প্রয়োগ | অফিসে যোগাযোগ করে, অফিসের ফোনে বা কর্মকর্তা ও কর্মারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগেরমাধ্যমে ও টিকাদান ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে। |
২ | হাঁস-মুরগির টিকা প্রয়োগ | অফিসে যোগাযোগ করে, অফিসের ফোনে বা কর্মকর্তা ও কর্মারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ও টিকাদান ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে। |
৩ | ০১ দিনের মুরগীর বাচ্চা সরবরাহ | অফিসে যোগাযোগ করে, অফিসের ফোনে বা কর্মকর্তা ও কর্মারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে । |
৪ | ০১ দিনের মুরগীর বাচ্চা সরবরাহ |
|
৫ | ০১ দিনের হাসেরবাচ্চা সরবরাহ | অফিসে যোগাযোগ করে, অফিসের ফোনে বা কর্মকর্তা ও কর্মারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে মাধ্যমে। |
৬ | ০১ দিনের হাসের বাচ্চাসরবরাহ |
|
৭ | হাইব্রিড লেয়ার খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
৮ | হাইব্রিড ব্রয়লার খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
৯ | সোনালী লেয়ার খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১০ | সোনালীর মাংস উৎপাদনে খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১১ | ফাওমী লেয়ার খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১২ | ফাওমীর মাংস উৎপাদন খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৩ | হাঁসের বাচ্চা পালন ইউনিট | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৪ | হাঁসের খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৫ | গাভীর খামার স্থাপন: | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৬ | গরু মোটাতাজা করন খামার স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৭ | ছাগলের খামার স্থাপন: | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৮ | ভেড়ার খামার স্থাপন: | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
১৯ | মহিষের খামর স্থাপন: | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
২০ | ব্লাকবেঙল পাঠা বিতরন | অফিসে যোগাযোগ করলে রাজাবাড়িহাট ছাগলের খামার থেকে সরবরাহ করা হয়। |
২১ | ঘাসের কাটিং বিতরন (একর) | অফিসে যোগাযোগ করলেঅফিস ক্যাম্পাস নার্সারী থেকে চারা/কাটিং বিতরন করা হয়। |
২২ | ক)-প্রশিক্ষণ (প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্তৃক) |
|
২৩ | খ)-প্রশিক্ষণ (অন্যান্য বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত) | অফিসে যোগাযোগ করলেঅফিস ক্যাম্পাস নার্সারী থেকে চারা/কাটিং বিতরন করা হয়। |
২৪ | বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন | অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মোটিভেশন কাজের মাধ্যমে |
২৫ | দুধ উৎপাদন | দুধ উৎপাদনের প্রশিক্ষন ও প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে |
২৬ | ডিম উৎপাদন | ডিম উৎপাদনের প্রশিক্ষন ও প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে |
২৭ | মাংস উৎপাদন | মোটাতাজাকরন প্রশিক্ষন ও প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে |
২৮ | চিকিৎসা সেবা | হাসাপাতালে এসে রেজিষ্ট্রেশানের পর ডাক্তার চিকিৎসা প্রদান করেন।
|
২৯ | কৃত্রিম প্রজনন সেবা | কৃত্রিম প্রজনন সাব সেন্টারে এসে বা মাঠ সহকারি(কৃত্রিম প্রজনন)/সেচ্ছাসেবী(কৃত্রিম প্রজনন) এর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়। |
৩০ | রোগ নির্ণয় সেবা | অফিসে এসে,অফিসের টেলিফোনে, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে আমরা নমুনা সংগ্রহ করি ও রোগ নির্নয়ের জন্য সিডিআইএল/ এফডিআইএল প্রেরন করি। |
৩১ | অফিসে নমুনা পরীÿা | মুরগির এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, আক্রামত্ম/মৃত হাঁস মুরগির ময়না তদমত্ম, গোবর, রক্ত, দুধ পরীÿা অফিসেই করা হয়। |
৩২ | প্রযুক্তি হস্তান্তর | বিভিন্ন প্রযুক্তির বিষয়ে ছাপানো পোষ্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল অফিসে পাওয়া যায় ও বিনামুল্যে বিতরন করা হয়। |
৩৩ | প্রযুক্তি প্রদর্শন | প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য সকল প্রযুক্তি অফিসের ডিসপেস্ন বোর্ডে লাগানো আছে |
বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ গেজেট নভেম্বর ৪,২০০৮,পৃষ্ঠা-৬৬৬১{বাংলাদেশ প্রাণিরোগ আইন,বিধি-১৮}মোতাবেক
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
গরম্ন/মহিষ/ছাগল/ভেঁড়া/অন্যান্য প্রানির বানিজ্যিক খামারের রেজিষ্ট্রেশান ফরম
বরাবর,
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
নাটোর।
আমি/ আমরা নিম্নস্বাÿরকারী ব্যাক্তি/ব্যাক্তিবর্গ/কোম্পানী গরম্ন,মহিষ,ছাগল,ভেঁড়া সহ বিভিন্ন সত্মন্যপায়ী প্রাণীর খামার স্থাপন পরিচালনা করতে আগ্রহী। সংশিস্নষ্ঠ বিষয়ে সরকারী নীতিমালা ও শর্তাবলী পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
১।আবেদনকারীব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামঃ
২। ঠিকানাঃ
স্থায়ী :
বর্তমানঃ
৩। গরম্ন,মহিষ,ছাগল,ভেঁড়ারও হাঁস মুরগিরসংখ্যাঃ
৪। স্থাপনকাল বা সম্ভাব্য স্থাপনকাল :
৫। খামারের অবস্থান ও ঠিকানা :
৬। বর্তমানে চালু হলে চালুর তারিখঃ
৭। চলমান না হলে হলে সম্ভাব্য চালুর তারিখঃ :
৮। লে আউট পস্ন্যান ( সংযুক্ত করতে হবে)
৯। খামারের ধরন ( টিক দিন): ফ্যাটেনিং মহিষ ছাগল ভেঁড়া হাঁস-মুরগি
১০। জনবল কাঠামোঃ
১১। নির্মানঃ
১২। পরিকল্পিত নির্মানের বর্ননাঃ
১৩। বায়োসিকিউরিটির ধরনঃ
১৪। রেকর্ড সংরÿন পদ্ধতিঃ
১৫। বর্জ অপসারন ব্যাবস্থার ধরনঃ
আবেদনকারীর নাম ও স্বাক্ষরঃ
তারিখঃ খ্রিষ্টাব্দ
তারিখঃ বঙ্গাব্দ
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারের সুপারিশ
খামারটি সরেজমিনে পরিদর্শনপুর্বক বর্নিত তথ্যাদি সঠিক পাওয়ায় উহা রেজিষ্ট্রেশানের জন্য সুপারিশ করা হইল। উক্ত খামারটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে তারিকাভুক্ত করা হইয়াছে।
.................................................
স্বাক্ষরওসীল
উপজেলাপ্রাণিসম্পদঅফিসার
নাটোরসদর,নাটোর।
|
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর
নাটোর
স্মারক নংঃজেপ্রাদ/নাট/ তারিখঃ খ্রিষ্টাব্দ
তারিখঃ............................................
বঙ্গাব্দ
খামারে নাম......................................................................................................................................................
মালিকের নাম...................................................................................................................................................
ঠিকানা...........................................................................................................................................................
...................................................................................................................................................................তাঁর আবেদনের প্রেÿÿতে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারের সুপারিশক্রমে খামারটির রেজিষ্ট্রেশান প্রদান করা হইল।
তাঁর খামারের রেজিষ্ট্রেশান নং...............................................................................তারিখঃ.........................................
.........................................
স্বাক্ষর ও সীল
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার
নাটোর।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বেসরকারি ছাগল খামার রেজিষ্ট্রেশান আবেদন ফর্ম
বরাবর,
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, নাটোর।
আমার/ আমাদের উন্নত জাতের ছাগল খামারটি রেজিষ্ট্রেশানের জন্য আবেদন পেশ করিতেছি। আমি/আমরা রেজিষ্ট্রেশানের শর্তাবলি মানিয়া চলিব। নিম্নে খামারের বিবরন প্রদান করা হইল।
১। খামারের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা (দাগ নং ও মৌজা নং সহ)ঃ
২। খামার মালিকের নাম ও ঠিকানাঃ
জনাব পিতার নামঃ মাতার নামঃ
গ্রাম/রোড নং ইউনিয়ন/পৌরসভাঃ
উপজেলার নামঃ জেলাঃ
টেলিফোন নং/মোবাইল নং(অফিস) বাসাঃ
৩। মালিকানার ধরন ঃ
৪। খামার স্থাপনের তারিখ ঃ
৫। খামারের শ্রেণী কোড ঃ
৬। খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতিপুর্বে
তালিকাভুক্তি/রেজিষ্ট্রেশান হইয়া থাকিলে তাহার নম্বর ও তারিখঃ
৭। ছাগল খামারের বিবরন ঃ
ছাগলের বিবরন
| মোট |
(ক) ছাগল
|
|
১। ছাগী দুগ্ধবতী
|
|
২। ছাগী শুস্ক
|
|
৩। খাসী
|
|
৪। পাঁঠা
|
|
৫। বাচ্চা (পুং)
|
|
৬। বাচ্চা (স্ত্রী)
|
|
তারিখঃ খামার মালিকের স্বাÿরঃ
উপজেলা ছাগলের খামার রেজিষ্ট্রেশানের সুপারিশঃ
স্মারক নং উপ্রাসঅ/নাট/........../ তারিখঃ..........................ইং।
উপজেলা গবাদিপ্রানি খামার রেজিষ্ট্রেশান কমিটির সুপারিশক্রমে উক্ত খামারটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যায়ে তালিকাভুক্ত করা হইয়াছে, যাহার তালিকাভুক্তির নম্বর.............................তারিখ...............................ইং। খামারটি উপজেলা কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন পুর্বক বর্নিত তথ্যাদি সঠিক পাওয়ায় উহা রেজিষ্ট্রেশানের জন্য সুপারিশ করা হইল।
স্বাক্ষরঃ
উপজেলাপ্রাণিসম্পদঅফিসার
নাটোরসদর,নাটোর।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কর্তৃক ব্যবহার যোগ্য
জনাব.............................................................স্মারক নং ........................................তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
..................................................................উপজেলা কমিটির সুপারিশক্রমে.............................................................
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক উক্ত ছাগল খামারটি রেজিষ্ট্রেশান করা হইল।
তাহার খামারের রেজিষ্ট্রেশান নং............................................................।
তারিখঃ......................................... স্বাÿরঃ
নামঃ
পদবীঃ
সীলঃ
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বেসরকারি ভেড়ার খামার রেজিষ্ট্রেশান আবেদন ফর্ম
বরাবর,
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, নাটোর।
আমার/ আমাদের উন্নত জাতের ভেড়ার খামারটি রেজিষ্ট্রেশানের জন্য আবেদন পেশ করিতেছি। আমি/আমরা রেজিষ্ট্রেশানের শর্তাবলি মানিয়া চলিব। নিম্নে খামারের বিবরন প্রদান করা হইল।
১। খামারের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা (দাগ নং ও মৌজা নং সহ)ঃ
২। খামার মালিকের নাম ও ঠিকানাঃ
জনাব পিতার নামঃ মাতার নামঃ
গ্রাম/রোড নং ইউনিয়ন/পৌরসভাঃ
উপজেলার নামঃ জেলাঃ
টেলিফোন নং/মোবাইল নং(অফিস) বাসাঃ
৩। মালিকানার ধরন ঃ
৪। খামার স্থাপনের তারিখ ঃ
৫। খামারের শ্রেণী কোড ঃ
৬। খামারটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতিপুর্বে
তালিকাভুক্তি/রেজিষ্ট্রেশান হইয়া থাকিলে তাহার নম্বর ও তারিখঃ
৭। ভেড়ার খামারের বিবরন ঃ
ভেড়ার বিবরন
| মোট |
(ক) ভেড়া
|
|
১। ভেড়ী দুগ্ধবতী
|
|
২। ভেড়ী শুস্ক
|
|
৩। ভেড়ার খাসী
|
|
৪। ভেড়ার পাঁঠা
|
|
৫। ভেড়ার বাচ্চা (পুং)
|
|
৬। ভেড়ার বাচ্চা (স্ত্রী)
|
|
তারিখঃ খামার মালিকের স্বাÿরঃ
উপজেলা ভেড়ার খামার রেজিষ্ট্রেশানের সুপারিশঃ
স্মারক নং উপ্রাসঅ/নাট/........../ তারিখঃ..........................ইং।
উপজেলা ভেড়ার খামার রেজিষ্ট্রেশান কমিটির সুপারিশক্রমে উক্ত খামারটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যায়ে তালিকাভুক্ত করা হইয়াছে, যাহার তালিকাভুক্তির নম্বর.............................তারিখ...............................ইং। খামারটি উপজেলা কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন পুর্বক বর্নিত তথ্যাদি সঠিক পাওয়ায় উহা রেজিষ্ট্রেশানের জন্য সুপারিশ করা হইল।
স্বাÿরঃ
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার
নাটোর সদর, নাটোর।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কর্তৃক ব্যবহার যোগ্য
জনাব.............................................................স্মারক নং ........................................তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
..................................................................উপজেলা কমিটির সুপারিশক্রমে.............................................................
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক উক্ত ভেড়ার খামারটি রেজিষ্ট্রেশান করা হইল।
তাহার খামারের রেজিষ্ট্রেশান নং............................................................।
তারিখঃ......................................... স্বাÿরঃ
নামঃ
পদবীঃ
সীলঃ
সার্কুলার
গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়
নাটোর সদর, নাটোর।
স্মারক নং উপ্রাসদ/নাট/১২/ তারিখঃ ৩১/১০/১২ ইং।
অফিস আদেশ
প্রাপকঃ
.................................................................................................
.................................................................................................
নাটোর সদর, নাটোর।
বিষয়ঃ পশু-পাখির খাদ্য বিক্রয় ক্যাটাগরি-৩(ক), ৩(খ) ও ৩(গ) এর লাইসেন্স গ্রহন প্রসঙ্গে।
সুত্রঃ মহা পরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা মহোদয়ের স্মারক নং শাখা-৩/নিবন্ধন(অংশ-১১)/২০১২/১০৫৪(৬৪)
তারিখঃ ০৫/০৭/২০১২ খ্রীঃ মোতাবেক।
উপর্যুক্ত বিষয় ও সুত্রের আলোকে আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, মৎস্য খাদ্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ (২০১০ সনের ২ নং আইন) এর ধারা ৭ ও ৮ অনুযায়ী সকল পশু খাদ্য ও হাঁস মুরগির খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরন, মান নিয়ন্ত্রন, আমদানি, রপ্তানি, বিপনন, বিক্রয়, বিতরন, পরিবহন এবং এতদসংক্রামত্ম আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কিত ব্যবসা/প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সংশিস্নষ্ঠ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামুলক। বিধায় আপনাকে আগামী ১০/১১/২০১২ খ্রীঃ তারিখের মধ্যে নিম্ন স্বাÿরকারীর দপ্তর হতে নির্ধারিত মুল্যে লাইসেন্স ফরম গ্রহণ পূর্বক প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজ পত্র সংযুক্ত করে অত্র দপ্তরে জমা প্রদান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
১০/১১/২০১২ খ্রীঃ তারিখের মধ্যে নিম্ন স্বাÿরকারীর দপ্তরে লাইসেন্স গ্রহনের আবেদন (০২ কপি) জমা প্রদানে ব্যর্থ হলে/জমা না দিলে আপনার বিরম্নদ্ধে ‘‘পশু খাদ্য ও হাঁস মুরগির খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরন, মান নিয়ন্ত্রন, আমদানি, রপ্তানি, বিপনন, বিক্রয়, বিতরন, পরিবহন এবং এতদসংক্রামত্ম আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন ২০১০ সনের ২নং আইন’’ এ বর্নিত ÿমতা বলে আপনার বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি অতীব জরম্নরী ও জনগুরম্নত্বপূর্ণ।
(ডাঃমোঃআনিসুররহমান)
উপজেলাপ্রাণিসম্পদকর্মকর্তা
নাটোরসদর,নাটোর।
ফোন নং ০৭৭১-৬৬৭১৩
স্মারক নং উপ্রাসদ/নাট/১২/ তারিখঃ ৩১/১০/১২ ইং।
জ্ঞাতার্থে ও কার্যার্থে অনুলিপি প্রেরন করা হলো,
১। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, নাটোর।
২। চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, নাটোর সদর উপজেলা।
৩। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাটোর সদর, নাটোর।
৪। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নাটোর সদর থানা।
৫। অফিস কপি।
উপজেলাপ্রাণিসম্পদকর্মকর্তা
নাটোরসদর,নাটোর।
সংযুক্তঃ
১। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর নং মপ্রাম/মৎস্য-২(আইন)/পশু.খা.বি.মা-০৬/২০১০-১৬৫ তারিখঃ০১/০৩/২০১২ খ্রিঃ
জারীকৃত ‘‘প্রজ্ঞাপন’’ এর ফটোকপি আপনার অবগতির জন্য আদেশের কপির সাথে সংযুক্ত করা হলো।
২। পশু-পাখির খাদ্যও বাচ্চাবিক্রয়কারিদের নামের তালিকা।
‘‘ফরম-৩’’
(বিধি-৬ দ্রষ্ঠব্য)
পশু-পাখির খাদ্য বিক্রয়করীর জন্য লাইসেন্স-এর আবেদন ফরম।
১। স্বত্বাধিকারীর নাম ঃ
পিতার নাম ঃ
মাতার নাম ঃ
বিসত্মারিত ঠিকানা ঃ গ্রাম/মহলস্নাঃ- ইউনিয়ন/পৌরসভাঃ-
উপজেলাঃ- জেলাঃ-
মোবাইল নং-
২। প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা ঃ নামঃ
গ্রাম/মহলস্নাঃ- ইউনিয়ন/পৌরসভাঃ-
উপজেলাঃ- জেলাঃ-
৩। বিক্রয়যোগ্য পশু-পাখির খাদ্যের সংÿÿপ্ত বিবরন ঃ
৪। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুবিধাদি ঃ
৫। আবেদন ফিস জমাদানের রশিদ (মুলকপি)ঃ
৬। অন্যান্য তথ্যাদি (যদি থাকে) ঃ
৭। আবেদনের তারিখ ঃ
আমি এই মর্মে ঘোষনা করিতেছি যে, উপরে বর্নিত সমুদয় তথ্যাদি সঠিক। আমি আরও ঘোষনা করিতেছি যে মৎস্য খাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ২০১০(২০১০ সনের ২ নং আইন)এবংপশুখাদ্য আইন ২০১০(২০১০ সনের ২ নং আইন)এ বর্নিত বিধি বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিব।
সংযুক্ত করতে হবেঃ
১। নাগরিকত্বের সনদপত্র।
২। ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত অনুলিপি।
৩। সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি ৩ কপি
স্বত্বাধিকারীর স্বাক্ষর
তারিখঃ
(সীলমোহর)
(ক) পারিবারিক পর্যায়ে খরগোশ পালন :
(1) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যথা : আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড, বৃটেন, নেদারল্যান্ড, চীন, জাপান সহ অনেক দেশে বানিজ্যিক ভাবে খরগোশ প্রতিপালন করা হয়। বাংলাদেশে ইহার পালন এবং মাংস এখনও জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। তবে বি,আর,ডি,বি এবং বাংলাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য কিছু বেসরকারী সংস্থা খরগোশ পালনে খামারীদের উৎসাহিত করতে সক্ষম হয়েছে।
(2) বানিজ্যিক ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক খরগোশ পালন অত্যন্ত লাভজনক।
(3) বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির যে খরগোশ দেখা যায়, তন্মেধ্যে সাদা, কালো, ডোরা এবং খয়েরী রংয়ের খরগোশ বেশী। বাংলাদেশে প্রাপ্ত জাত সমূহের মধ্যে ডার্ক গ্রে (নেটিভ), ফক্র্, ডাচ, নিউজিল্যান্ড সাদা, নিউজিল্যান্ড লাল, নিউজিল্যান্ড কালো বেলজিয়াম সাদা এবং ছিনছিলা প্রভৃতি উল্লেখ যোগ্য।
( খ) বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিভিন্ন জাতের খরগোশের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা :
জাত | উৎপত্তি | প্রাপ্তি স্থান | রঙ | দৈহিক ওজন (বয়স্ক) | অন্যান্য বৈশিষ্ট্যু |
১) ডার্ক গ্রে (নেটিভ) | বাংলাদেশ | ঢাকা যশোর | গাঢ় ধূসর | ২-৩ কেজি | চালাক চতুর এবং ভাল তৃনভোজীু |
২) ফক্স | আমেরিকা | ঐ | কালো এবং অম্রবর্ন | ২.৫-৩.১৭ কেজি | ছোট আকৃতির এবং মাংসল জাত |
৩) ডাচ | নেদারল্যান্ড | ঢাকা | সাদা দাগযুক্ত ধূসর রঙের | ১.৮-২.২৫ কেজি | মাংস উন্নতমানের এবং ল্যাব প্রাণী |
৪) নিউজিল্যান্ড লাল | নিউজিল্যান্ড | ঢাকা যশোর | লালচে সাদা | ৩.৬০-৪.৫০ কেজি | মাংস খুবইা উন্নতমানের তৃনভোজী এবং তুলনামূলকভাবে বেশী শান্ত |
৫) নিউজিল্যান্ড সাদা | নিউজিল্যান্ড | ঢাকা যশোর খুলনা বাগেরহাট | সাদা | ৪.৫০-৫.৪৪ কেজি | মাংস খুবই সুস্বাদু দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ভাল তৃনভোজী |
৬) নিউজিল্যান্ড কালো | নিউজিল্যান্ড | ঢাকা যশোর খুলনা | কালো | ৪-৫.৪৪ কেজি | দ্রুত বর্ধনশীল, তৃনভোজী এবং এর মাংস খুবই সুস্বাদু |
৭) বেলজিয়াম সাদা | বেলজিয়াম | ঢাকা | সাদা | ৩.৫২-৪.৭ কেজি | দ্রুত বর্ধনশীল, তৃনভোজী এবং এর মাংস খুবই সুস্বাদু |
৮) ছিনছিলা | ফ্রান্স | ঢাকা যশোরু |
| ২.৫০-২.৯৫ কেজি | অত্যন্ত ভাল মানের মাংস উৎপাদনকারী এবং তৃনভোজী |
(M) খরগোশ পালনের সুবিধা সমূহ :
(1) ইহা দ্রুত বর্ধনশীল প্রাণী।
(2) বাচ্চা দেয়ার হার অত্যাধিক, এক সাথে ২-৮ টি প্রসব করে।
(3) প্রজনন ক্ষমতা অধিক এবং এক মাস পর পর বাচ্চা প্রদান করে।
(4) খাদ্য দক্ষতা অপেক্ষাকৃত ভাল।
(5) মাংস উৎপাদনে পোল্ট্রির পরেই খরগোশের অবস্থান।
(6) অল্প জায়াগায় স্বল্প খাদ্যে পারিবারিক পর্যায়ে পালন করা যায়।
(7) অল্প খরচে অধিক উৎপাদন সম্ভব।
(8) খরগোশের মাংস অধিক পুষ্টিমান সম্পন্ন ও উন্নতমানের।
(9) সব ধর্মের লোকই ইহার মাংস খেতে পারে তাতে কোন সামাজিক বাধা নেই।
(১০) রান্না ঘরের উচ্ছিষ্টাংশ, বাড়ীর পাশের ঘাস এবং লতা পাতা খেয়ে ইহার উৎপাদন সম্ভব।
(১১) পারিবারিক শ্রমের সফল ব্যবহার করা সম্ভব।
(ঘ) খরগোশের শারিরীক ও বায়োলজিক্যাল বৈশিষ্টাবলী :
গুনাবলী | পর্যবেক্ষন | মন্তব্য |
পায়ুর তাপমাত্রা | গড়ে ৩৯.৫০ সে রেঞ্জ ৩৮-৪০ সেঃ | জাতের পাথক্য বিদ্যমান এবং ছোট প্রাণীতে বেশী তাপমাত্রা থাকে। |
নাড়ী স্পন্দন | (১৫০-৩০০) বিট/মিনিট | খুব ছোট খরগোশের হৃদয স্পন্দন বেশী হয় |
শ্বাস প্রস্বাসের হার | ৩০-১০০ মি: | প্রাপ্ত বয়সে গড়ে ৫-৫০ |
দুগ্ধ দান কাল | গড়ে ৪২ দিন | - |
বাচ্চা প্রদানের হার/মাদী খরগোশ/বৎসর | ২-১০ | সাধারণত : পদর্শনী জাত গুলিতে কম হয় তবে আভ্যন্তরীণ ফার্মে ব্যবহৃত জাত গুলিতে ইহার সংখ্যা বেশী হয়। |
বাচ্চার সংখ্যা | ২-১৪ টি | ইহা নির্ভর করে জাত, স্টেইন পার্থক্যের উপর। মাঝারী আকারের প্রদর্শণী স্টকে কম গড়ে ৫-৬টি কিন্তু বাণিজ্যিক জাতে ৮-৯টি |
জীবন কাল | ৬-১১ বৎসর | - |
পুর্নতা প্রাপ্তির বয়স | ১৬-২৬ সপ্তাহ | ছোট জাতের পূর্নতা প্রাপ্তি আগে হয় |
গর্ভধারন কাল | ৩১-৩২ দিন | তবে ইহা ২৯-৩৪ দিন হতে পারে |
প্রাপ্ত বয়স্ক ওজন | ১-৭.৫ কেজি | তবে খুব কম ক্ষেত্রে ১২ কেজি পর্যন্ত ওজনহয়। |
সেক্স রেশিও | ১০০ পুরুষঃ ১০২ স্থী খরগোশ | - |
(ঙ) খরগোশ প্রতি পালনের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
1) বানিজ্যিকভাবে খরগোশ প্রতিপালনের জন্য বহুতল বিশিষ্ট খাঁচা এবং মেঝেতে খরগোশ পালন করা যায়। স্বাভাবিকভাবে জাত অনুযায়ী মেঝের আকার বিভিন্ন ধরনের হয়।
2) সাধারনতঃ প্রতি ৮টি বয়স্ক খরগোশের জন্য ৫’X ২ বর্গফুট একটি খাঁচার প্রয়োজন হয় এবং প্রজননের সময় আলাদা প্রজনন ঘর ব্যবহার করা (১ বর্গফুট /১/২ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য) হয়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের খরগোশ ছেড়ে পালন করা যায়, তবে বাচ্চা দেয়ার সময় এরা নিজেরাই গর্ত খুড়ে নিজের গায়ের লোম ছিড়ে বাসা তৈরী করে।
3) যদি খাচায় পালন করা হয়, তবে বাচ্চা দেয়ার সময় মেটার্নিটি বক্স বা নেট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক খরগোশের খাঁচার পরিমান ও মেটার্নিটি বক্সের পরিমান দেয়া হলো :
4) খরগোশের ঘরের / খাঁচার পরিমাপ : প্রতিটি খরগোশের জন্য খাঁচার পরিমাপ
দৈর্ঘ্য - ৭৫ সে:মি:
প্রস্থ্য - ৪৫ সে:মি:
এবং উচ্চতাু ৩৫ সি:মি:
5) মেটার্নিটি বক্সের পরিমান
দৈঘ্য - ৪০ সে:মি:
প্রস্থ্য - ৩০ সে:মি:
উচ্চতা - ২৫ সে:মি:
দরজা -১৫ সে:মি:
(P) খাদ্য :(১) বয়স ও জাত ভেদে খরগোশের খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হয়। একটি বয়স্ক খরগোশের খাদ্য রসদে
পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিম্নে দেয়া হলো :
ক্রুড প্রোটিন (সিপি) = ১৭% (ভাগ)
আঁশ (ফাইবার ) = ১৪% (ভাগ)
মিনারেল = ৭%
বিপাকীয় শক্তি (এমই )=১১ মেগাজুল/কেজি
(২) খাদ্য গ্রহন
১৩০-১৪৫ গ্রাম/দিন (বয়স্ক খরগোশ)
২৫০-৩০০ গ্রাম/দিন (দুধালা খরগোশ)
৯০ গ্রাম/দিন (বাড়ন্ত খরগোশ)
(৩) খাদ্য উপাদান সমূহ
সবুজ শাকসব্জি
ঋতু ভিত্তিক সব্জি, পালং শাক, গাজর, মুলা, শশা, শাকের উচ্ছিষ্টাংশ, সবুজ ঘাস ইত্যাদি।
(4) দানাদার খাদ্য :
চাল, গম, ভুট্রা, তৈলবীজ ইত্যাদি। তবে বানিজ্যিক ভাবে খরগোশ পালনের জন্য মুরগীর মত তৈরীকৃত মিশ্রিত খাদ্য খরগোশের রেশন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
(Q) প্রজনন :
(1) খরগোশ সাধারনত: ৫-৬ মাস বয়সে প্রথম প্রজননক্ষম হয়, তবে ঋতু এবং পর্যাপ্ত ওজন প্রাপ্তির উপর ইহা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
(2) গর্ভবর্তী খরগোশ ২৮-৩৪ দিনের মধ্যে বাচ্চা দেয় এবং বাচ্চার ওজন খরগোশের শারিরিক ওজনের উপর নির্ভরশীল।
(3) ই্হা সাধারণত: দৈহিক ওজনের ২% হয় অর্থ্যাৎ ১.২৫ কেজি (সোয়া কেজি) ওজনের একটি খরগোশের বাচ্চার ওজন হয় ৩০ গ্রাম।
(4) খরগোশের দুগ্ধদান কাল সময় ৬-৮ সপ্তাহ এবং উইনিং ওজন হলো ৮০০-১২০০ গ্রাম। খরগোশ প্রতিবারে ২-৮টি বাচ্চা প্রদান করে এবং একবার বাচ্চা দেয়ার ৩ মাস পরেই আবার বাচ্চা দিতে পারে। প্রজননের সময় একটি পুরুষ খরগোশের সাথে ৩-৪টি স্থী খরগোশ রাখা যেতে পারে, তবে গর্ভবর্তী খরগোশকে পৃথক করে রাখা প্রয়োজন।
(R)খরগোশের বাচ্চার যত্ন :
(1) খরগোশ ছোট প্রাণী্যদিও ইহা একসংগে ৬-৮টি বাচ্চা দেয়। তাই অনেক সময় প্রথম দশ দিন এই বাচ্চাগুলোর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয, যেমন : মা খরগোশ হতে দুধ খেতে সাহায্য করা, প্রয়োজনে ফিডারে করে দুধ খাওয়ানো, ভাতের মাড় বা দুধে বিস্কুট ভিজিযে খাওয়ানো যেতে পারে।
(2) তাছাড়া বাচ্চার ঘরের প্রয়োজনীয় তাপের ব্যবস্থা করা, প্রিডেটর,লাল পিপড়া ইত্যাদির হাত থেকে বাচ্চা রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
(ঝ) খরগোশের রোগ বালাই :
খরগোশ অতিশয় সুন্দর এবং নরম প্রকৃতির প্রাণি। ইহা অত্যাধিক পোষ মানে। খবগোশের রোগ তুলনামূলক ভাবে কম। খরগোশ পরিচ্ছন্ন জায়গায় থাকতে বেশী পছন্দ করে। ইহার ঘর সর্বদাই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। ঘরে প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ধুলোবালি, পোকামাকড়, ইঁদুর, পিঁপড়া ইত্যাদি রোধ করতে হবে। ঘরে ২৯০ সে: এর বেশী তাপমাত্রা থাকলে পুরুষ খরগোশের সাধারনত: অনুর্বরতা দেখা যায়।তাছাড়া কক্সিডিওসিস, গলাফুলা, পাস্ত্তরিলোসিস প্রভৃতি কয়েকটি রোগ খরগোশের সাধারণত: দেখা দেয়। নিম্নে অসুস্থ্য খরগোশের কয়েকটি লক্ষন দেয়া হলো :
1. চোক কান খাড়া থাকে না।
2. লোম শুস্ক ও রুক্ষ দেখায়।
3. খাদ্য, পানি, খেতে অনীহা প্রকাশ করে।
4. দৌড়া দৌড়ি কম করে।
5. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
গ্রামীণ পরিবেশে ও বাণিজ্যিক খামারে ভেড়া পালন
ডঃ মোঃ আজহারুল ইসলাম তালুকদার
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
বিএলআরআই, সাভার, ঢাকা
ভূমিকা
ভেড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হিসেবে কৃষি ক্ষেত্রে মাংস ও পশম সরবরাহ করে আসছে। ইহারা পতিত জমির ঘাস, আগাছা ও উচ্ছিষ্ট পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকে। ভেড়ার গোবর উৎকৃষ্ট সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
· ভেড়ার সবচেয়ে সুবিধা হলো একজন লোক অনায়াসে একসঙ্গে ৫০-১০০টা ভেড়া পালন করতে পারে।
· ভেড়া নিজেদের বিভিন্ন আবহাওয়ায় ও জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ায়ে চলতে পারে।
· ১৯৯৬ সালের কৃষি এবং পশুসম্পদ শুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের ভেড়ার সংখ্যা ১.৬৯ মিলিয়ন। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ১২ বৎসরে ভেড়ার সংখ্যা ২.৫৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বাৎসরিক বৃদ্ধির হার শতকরা ৫ ভাগ।
· বাংলাদেশে গড়ে প্রতিটি ভেড়া পালনকারী ফার্ম পরিবারে ৩.৪টি ভেড়া আছে।
· বাংলাদেশে প্রাণীজ আমিষের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ভেড়ার শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ আমিষের ঘাটতি অনেকাংশে মেটানো সম্ভব।
· বাংলাদেশে সেমি ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে ভেড়া পালন সবচেয়ে বেশী লাভজনক। সেমি ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে ভেড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে চরানোর সাথে সাথে ঘরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ দানাদার খাদ্য এবং আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন কাটা ঘাস, পাতা, খড় ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবাসহ পরিকল্পিত (Planned) ব্রিডিং করা হয়।
· এই পদ্ধতিতে ভেড়া পালনের বিশেষ দিকগুলো হচ্ছে উপযুক্ত বাসস্থান, উপযুক্ত খাদ্য, প্রজনন, স্বাস্থ্য ও বাচ্চার ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত চারনভূমি ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনা। উক্ত বিষয়সমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো।
আবাসন
ভেড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সাধারনতঃ পরিস্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচলকারী পরিবেশ দরকার। অপরিস্কার ও স্যাঁত স্যাঁতে, বন্ধ, অন্ধকার ও পুতিগন্ধময় পরিবেশ ভেড়ার রোগবালাই যেমন-নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, ডাইরিয়া, ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবী রোগ দেখা যায়। সেই সাথে ওজনবৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং বাচ্চা উৎপাদনের হার কমে যায়।
ক) বাসস্থান নির্মাণের স্থান
পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলা স্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে কাঁঠাল গাছ, ইপিল ইপিল, কাসাভা, ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে, যাদের পাতা ভেড়ার খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ভেড়ার খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
খ) ঘরের আয়তন
সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে ভেড়া সাধারণত ১৪-১৬ ঘন্টার মত সময় ঘরে আবদ্ধ রাখা হয়। এজন্য এই পদ্ধতিতে প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ভেড়ার জন্য গড়ে প্রায় ৮-৯ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন অর্থাৎ ১৬X১২ বর্গফুট করে ২০-২৪টি বয়স্ক ভেড়া রাখা যায়। প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ৫-৭ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।
গ) বাসস্থানের ধরণ
ভেড়ার ঘর ছন, গোলপাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ভেড়া রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ১.৫ মিটার (৫ ফুট) এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ১.৮-২.৪ মিটার (৬-৮ ফুট) হবে। গোবর ও পেশাব পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২.৫৪ সে.মি. (১ ইঞ্চি) ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নীচ থেকে সহজে গোবর ও পেশাব সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু (২%) রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ভেড়ার ঘরের দেয়াল , মাচার নীচের অংশে ফাঁকা এবং মাচার উপরের অংশ এম, এম, ফ্ল্যাক্সিবল নেট হতে পারে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ভেড়ার ঘরের চালা ১-১.৫ মিঃ (৩.২৮-৩.৭৭ ফুট) ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপর দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতের সময় মাচার উপর ১০-১২ সেঃ মিঃ (৪-৫ ইঞ্চি) পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে।
ঘ) বাসস্থানের বিন্যাস
বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরনের ভেড়া ভিন্ন ভিন্ন ভাবে রাখা উচিৎ। পাঠাকে সব সময় ভেড়ী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ভেড়ী একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে বাচ্চা দেওয়ার পর অন্ততঃ এক মাস পর্যন্ত ভেড়ীর সাথে (চরানোর সময় ছাড়া) বাচ্চাকে রাখা উচিৎ। বাড়ন্ত ভেড়া ও খাসী একই জায়গায় রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃথক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতের রাতে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং কক্ষে (Pen) রাখতে হবে।
ঙ) ব্রুডিং পেন
ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ করে কাটের বা বাঁশের হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের বস্তা দিয়ে ঢাকা থাকে। খাঁচার মেঝে সাধারণ ভেড়ার ঘরের মত মাচা বিশিষ্ট কিন্তু সেখানে ১০-১২ সেঃ মিঃ পুরু খড় বিছানো থাকে। ৬০X৫৬X৬০ ঘন সেঃ মিঃ আয়তনে ব্রুডিং পেনে ২টি ভেড়ী ৪-৬টি বাচ্চা রাখা যায়। তাপমাত্রা ১৫০ সেঃ এর নিচে নামলে সেখানে প্রতি খাঁচায় ১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব জ্বালিয়ে তাপমাত্রা ২০-২৫০ সেঃ এ রাখা যায়।
খাদ্য ব্যবস্থাপনা
ভেড়ার খাদ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান নির্ভর করে চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুণগত মানের উপর। বয়স ও উৎপাদনের ভিত্তিতে ভেড়ার খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিম্নরূপঃ
ক) ভেড়া ছানার কলষ্ট্রাম ও দুধ খাওয়ানো
ভেড়ী বাচ্চা প্রসবের প্রথম তিন দিনের দুধকে কলষ্ট্রাম বলে। সাধারণ দুধ ও কলষ্ট্রামের কম্পোজিশন ১নং টেবিলে দেয়া হলো।
টেবিল-১ঃ ভেড়ার দুধ ও কলষ্ট্রামের উপাদানের শতকরা হার।
| ফ্যাটি | প্রোটিন | লেকটোজ | খনিজ | মোট শুষ্ক পদার্থ |
দুধ | ৫.০৯ | ৩.৩৩ | ৬.০১ | ১.৬০ | ১৬.০৩ |
কলষ্ট্রাম | ৫.৬ | ৮.১০ | ৪.৮০ | ০.৮৫ | ২০.৩০ |
সাধারণতঃ ভেড়ার বাচ্চার জন্মের সময়ে ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ভেড়ার বাচ্চা প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়াতে হবে। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ খাওয়াতে দেরী হলে উক্ত দুধ হজম হয় না। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ভেড়ীর বাচ্চা সাধারণতঃ ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে।
ভেড়ার খাদ্যাভাস
ভেড়া গরুর মত মাটিতে চরে খেতে পছন্দ করে। তবে এরা ছাগলের মত লতা গুল্ম জাতীয় গাছের পাতাও খায়। এদের খাদ্যে বাছ-বিচার সাধারণত কম। খুব সহজে নতুন খাদ্যে অভ্যস্ত হয়। এরা ঘাস, লতাপাতা, সাইলেজ, হে, খড়, দানাদার খাদ্য ইত্যাদি খেয়ে থাকে। খাদ্যাভাবের সময় এরা খড়, নাড়া ইত্যাদি খায়। এ সময় এরা পাকস্থলীর আয়তন, পাকস্থলীতে পানির পরিমান এবং খাদ্য-পাচ্যতার সময় বাড়িয়ে দিয়ে খাদ্যের পাচ্যতাকে (Digestibility) প্রায় ১২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।
ভেড়ার খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ
ভেড়া উৎপাদনের অন্যতম খরচ হচ্ছে খাদ্য। খাদ্য খরচ কমানোর জন্য অন্যতম উপায় হচ্ছে খামারীর নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন অথবা প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত খাদ্যের ব্যবহার। প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন খাদ্যের উৎস্য হচ্ছে চারণভূমি। বর্তমানে আমাদের দেশে তেমন কোন চারণ ভুমি নেই। সাধারণত: উপকুলীয় চর, নদীর চর, পাহাড়ীয়া অঞ্চল, বন্যার বাঁধ, পুকুর পাড়, রাস্তার ধার, ফসল কাটা মাঠ ইত্যাদি স্থানে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ চরে বেড়ায়। এসব স্থানে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত ঘাসই গবাদিপশুর অন্যতম খাদ্যের উৎস। পরিকল্পিত ভাবে ঘাস চাষ করলে এসব সহানে ঘাসের উৎপাদন তথা গবাদি পশুর খাদ্য সরবরাহও অনেক বেড়ে যায়।
সবুজ ঘাস উৎপাদন
বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় গবাদিপশুর ঘনত্ব বেশী কিন্তু চারণভূমি নেই। এ সব স্থানে গবাদিপশু সাধারণত বেঁধে পালন করা হয়। এক্ষেত্রে যে সব বাড়ীর আশে পাশে কিছু জায়গা আছে সে সব জায়গায় ঘাস/পাতা উৎপাদন করা যায়। এতে এক দিকে যেমন ভেড়া/ছাগল/গরুর জন্য ঘাস পাওয়া যায় তেমনি বাড়ী ঘর ঝড়-ঝঞ্জা থেকে রক্ষা পায় পাশাপাশি জ্বালানী হিসাবে ডাল/পাতা/ঘাস ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে উচ্চ ফলনশীল বহুবর্ষজীবী ঘাস যেমন - নেপিয়ার, গিনি, স্প্লেনডিডা ইত্যাদি, লিগিউম জাতীয় গুল্ম যেমন- ধই্ঞ্চা, অড়হর; বৃক্ষ যেমন ইপিল-ইপিল, গ্লিরিসিডিয়া, বাবলা, ইত্যাদি চাষ করা যেতে পারে।
ভেড়ার দানাদার খাদ্য
ভেড়ার দানাদার খাদ্য বলতে আমরা সাধারণত বিভিন্ন ধরণের শষ্যবীজ যেমন ধান, গম, ভূট্রা ইত্যাদি; বিভিন্ন ধরণের ভূষি যেমন গমের ভূষি, চালের কুড়া, মাসকালাই, খেসারী, মটর ইত্যাদির ভুষি; বিভিন্ন ধরণের খৈইল যেমন সরিষার খৈইল, তিলের খৈইল, সয়াবিন খৈইল ; বিভিন্ন ধরণের প্রাণীজাত খাদ্য যেমন ফিসমিল বা মাছের গুড়া; বিভিন্ন ধরণের খনিজ যেমন লবন, ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট ইত্যাদি বুঝায়। এসব দানাদার খাবার বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এসব খাদ্য উপাদান সমূহ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে আমরা দানাদার খাদ্য মিশ্রন তৈরী করি। ভেড়ার দানাদার খাদ্যের বিভিন্ন উৎস, উপাদান এবং খাদ্য মিশ্রনে এদের ব্যবহারের শতকরা হার ২নং টেবিলে দেওয়া হলো।
টেবিল ২ঃ ভেড়ার দানাদার খাদ্যের বিভিন্ন উৎস, উপাদান এবং খাদ্য মিশ্রনের ব্যবহারের শতকরা হার
ক্রমিক নং | প্রধান উৎস | উপাদান | মিশ্রন তৈরিতে শতকরা হার |
১। | শক্তি এবং আমিষ | শষ্যবীজঃ চাল ভাঙ্গা, গম ভাঙ্গা, ভূট্রা ভাঙ্গা বিভিন্ন ধরণের ডাল ভাঙ্গা | ০-৩০% |
২। | শক্তি এবং আমিষ | ভূষি জাতীয়ঃ চালের কুড়া, গমের ভূষি, মাসকালাই/খেসারী.মসুর/মুগ ডালের ভূষি | ২৫-৫০% |
৩। | আমিষ | খৈলঃ তিলের খৈল, সরিষার খৈল, সয়াবিন খৈল, নারিকেলের খৈল | ১৫-২৫% |
৪। | আমিষ | প্রাণীজাত খাদ্যঃ শুটকি মাছের গুড়া, প্রোটিন কনসেনট্রেট | ০-৫% |
৫। | খনিজ | খনিজ উপজাতঃ লবন, ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট, ঝিনুকের গুড়া, ডিমের খোসার গুড়া | ০-৩% |
৬। | ভিটামিন ও খনিজ | বাজারে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স | ০-০.০৫% |
দানাদার মিশ্রনে কি পরিমান কোন নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান থাকবে তা নির্ভর করবে উক্ত খাদ্য মিশ্রন কোন বয়সি ভেড়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। যেমন- ভেড়ার বাচ্চার দানাদার মিশ্রনে সাধারণত বেশি অনুপাতে শষ্য বীজ থাকে। আবার বয়স্ক ভেড়ার দানাদার মিশ্রনে বেশি অনুপাতে কুড়া/ভূষি থাকে। নিচে বয়স্ক এবং বাচ্চা ভেড়ার দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রনের শতকরা হার প্রদান করা হলো (টেবিল ৩)।
টেবিল ৩ঃ বাচ্চা, বাড়ন্ত এবং বয়স্ক ভেড়ার জন্য দানাদার খাদ্য মিশ্রনের সম্ভাব্য নমুনা (%)।
ক্রমিক নং | খাদ্য উপাদান | বাচ্চা ভেড়া (৩-৬ মাস) | বাড়ন্ত ভেড়া (৭-১৫ মাস) | বয়স্ক ভেড়া (> ১৫ মাস) |
১। | চাল/গম/ভূট্রা ভাঙ্গা | ৩০.০০ | ১৫.০০ | ১০.০০ |
২। | বিভিন্ন ধরণের ডালের খুদ | ৫.০০ | - | - |
৩। | গমের ভূষি/চালের কুড়া | ২৯.০০ | ৪৫.০০ | ৫০.০০ |
৪। | মাসকালাই/খেসারী/মুসুর/মুগ/মটর ইত্যাদি ডালের ভূষি | ৫.০০ | ১৫.০০ | ১৫.০০ |
৫। | সয়াবিন খৈল/তিলের খৈল/সরিষার খৈল | ২৫.০০ | ২০.০০ | ২০.০০ |
৬। | শুটকি মাছের গুড়া/প্রোটিন কনসেনট্রেট | ২.৫০ | ১.০০ | ১.০০ |
৭। | ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট/ঝিনুকের গুড়া/ডিমের খোসার গুড়া | ২.০০ | ২.০০ | ২.০০ |
৮। | সাধারণ খাদ্য লবন | ১.০০ | ১.৫ | ১.৫ |
৯। | ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স | ০.৫০ | ০.৫ | ০.৫ |
| সর্বমোটঃ | ১০০.০০ | ১০০.০০ | ১০০.০০ |
| মোট বিপাকীয় শক্তি (মেগাজুল/কেজি শুষ্ক পদার্থ) | ১১.৪০ | ১০.৯২ | ১০.৮৭ |
| মোট প্রোটিন (গ্রাম/কেজি শুষ্ক পদার্থ) | ১৬৩ | ১৬৪ | ১৬৫ |
| মোট বিপাকীয় প্রোটিন (গ্রাম/কেজি শুষ্ক পদার্থ) | ৭০ | ৬৭ | ৬৬ |
ভেড়ার বাচ্চার খাদ্য ব্যবস্থাপনা
বস্ত্তত ভেড়ার বাচ্চার পুষ্টি ব্যবস্থাপনা মায়ের গর্ভাবস্থা থেকেই শুরু করতে হয়। ভেড়ার গর্ভধারণকাল ১৪৫-১৪৮ দিন। গর্ভের শেষ দুই মাস মাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে। এতে বাচ্চা সবল ও পুষ্ট হয় এবং মায়ের দুধ পায়। বাচ্চা জন্মের সাথে সাথে পরিস্কার ও শুকানো বাচ্চাকে যথাশীঘ্র সম্ভব মায়ের শাল দুধ দিতে হবে । শাল দুধ বাচ্চার প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে সব বাচ্চা যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
টেবিল ৪ঃবয়স ও ওজন ভেদে ভেড়ার বাচ্চার (০-৪ মাস) প্রয়োজনীয় খাদ্য
বয়স (সপ্তাহ) | ওজন (কেজি) | দৈনিক খাদ্য সরবরাহ (গ্রাম) | |||
মায়ের দুধ (সাকলিং)/ বিকল্প দুধ | দানাদার খাদ্য * | কচি ঘাস/লতা পাতা | ইউএমএস বা প্রক্রিয়াজাত ঘাস | ||
০ | ১.৫ | ২৯০ | - | - | - |
১ | ২.০ | ৩৬০ | - | - | - |
২ | ২.৪ | ৪১০ | ১০ | সামান্য পরিমান |
|
৩ | ২.৮ | ৪৬০ | ১০ | সামান্য পরিমান |
|
৪ | ৩.১ | ৫০০ | ১৫ | সামান্য পরিমান |
|
৫ | ৩.৬ | ৫৬০ | ২০ | ১০০ |
|
৬ | ৪.০ | ৬০০ | ২৫ | ১৫০ | সামান্য (১০ গ্রাম) |
৭ | ৪.৪ | ৬০০ | ৩০ | ১৫০ | ঐ |
৮ | ৪.৭ | ৬০০ | ৩০ | ১৫০ | ২০ |
৯ | ৫.০ | ৫৫০ | ৪০ | ১৭৫ | ৩০ |
১০ | ৫.৪ | ৫০০ | ৫০ | ২০০ | ৩০ |
১১ | ৫.৭ | ৪৫০ | ৭৫ | ২৫০ | ৩০ |
১২ | ৬.১ | ২০০ | ৯০ | ৩০০ | ৪০ |
১৩ | ৬.৫ | ১০০ | ১৫০ | ৩৫০ | ৫০ |
১৪ | ৬.৯ | ১০০ | ২০০ | ৪০০ | ৭০ |
১৫ | ৭.৩ | - | ২০০ | ৪৫০ | ৭০ |
১৬ | ৭.৭ | - | ২০০ | ৫০০ | ১০০ |
*৭ নং টেবিলে প্রদত্ত ভেড়ার বাচ্চার জন্য নির্ধারিত দানাদার মিশ্রন দেয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশী ভেড়া গড়ে প্রায় ২টি বাচ্চা দেয়। জন্মের সময় ভেড়ার বাচ্চার ওজন সাধারণত ১.০-১.৫ কেজি হয়। বাচ্চা জন্মের প্রথম ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে। এ সময় বাচ্চার দৈনিক প্রায় ৩০০ গ্রাম শাল দুধ প্রয়োজন হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাচ্চার দুধের চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ নিয়ম অনুসরন করলে চার সপ্তাহ বয়সেই ভেড়ার বাচ্চার ওজন প্রায় ৩ কেজি হবে। এসময় প্রতিটি বাচ্চার প্রায় ৫০০ গ্রাম দুধের প্রয়োজন। দুই বাচ্চা বিশিষ্ট ভেড়ীকে এ সময় দৈনিক প্রায় ১ কেজি দুধ উৎপাদন করতে হয়। সাধারণত ভেড়ীকে পর্যাপ্ত পরিমান খাওয়ালে সে উক্ত পরিমান দুধ উৎপাদন করে। তবে ভেড়ার ছানাকে জন্মের ২য় সপ্তাহ থেকেই সামান্য পরিমান দানাদার খাদ্য এবং কচি ঘাস-লতা-পাতা খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। এতে বাচ্চার দুধের উপর নির্ভরশীলতা কমতে থাকে। বাচ্চার ৬-৮ সপ্তাহ বয়সে সাধারণত মা পুনরায় গর্ভবতী হয় এবং দুধ উৎপাদন কমে যায়। এ সময়ে বাচ্চার দানাদার খাদ্য এবং ঘাস গ্রহণ বাড়তে থাকে। কাঁচা ঘাস পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যায় না এমন স্থানে ভেড়া/বাচ্চাকে ধীরে ধীরে ইউএমএস বা প্রক্রিয়াজাত খড় বা ডালের খড় বা সাইলেজ খাওয়ানো যায়। বাচ্চার চাহিদার তুলনায় মায়ের দুধ অপর্যাপ্ত হলে গরুর দুধ বা বিকল্প দুধ (Milk replacer) ব্যবহার করা যেতে পারে। গাভীর দুধ বা বিকল্প দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ফিডার, নিপল এবং দুধের পাত্র পরিস্কার জীবানুমুক্ত রাখতে হবে। তাছাড়া ৪ নং টেবিলে বর্ণিত পরিমান দুধ দিনে কমপক্ষে ৩-৪ বারে খাওয়াতে হবে। কখনোই ঠান্ডা বা বাসী দুধ খাওয়ানে উচিত নয়। ভেড়ার বাচ্চার জন্য সম্ভাব্য মিল্ক রিপ্লেসার বা বিকল্প দুধের উপাদান ৫ নং টেবিলে দেয়া হলো।
টেবিল ৫ঃ ভেড়ার বাচ্চার জন্য সম্ভাব্য মিল্ক রিপ্লেসার বা বিকল্প দুধ উপাদান এবং অনুপাত
ক্রমিক নং | উপাদান | পরিমাণ (%) |
১। | গুঁড়া দুধ | ৭০.০ |
২। | চাল/গম/ভূট্রার গুড়ি | ২০.০ |
৩। | সয়াবিন তৈল | ৭.০ |
৪। | খাদ্য লবন | ১.০ |
৫। | ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট | ১.৫ |
৬। | ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স | ০.৫ |
| মোট | ১০০.০ |
৫ নং টেবিলে প্রদত্ত মিশ্রন থেকে বিকল্প দুধ তৈরীর জন্য উক্ত মিশ্রনের এক ভাগের সাথে নয় ভাগ পানি মিশাতে হবে। অর্থাৎ মিল্ক রিপ্লেসার ও পানির অনুপাত হবে ১ঃ ৯। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানিকে অন্তত ৫ মিনিট ফুটিয়ে পুনরায় ৩৯-৪০০ সেঃ (কুসুম গরমাবসহা) তাপমাত্রায় ঠামডা করে বিকল্প দুধ তৈরীতে ব্যবহার করতে হবে। ভোড়ার বাচ্চার দানাদার খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দানাদার খাদ্যটি কম আঁশযুক্ত, অধিক বিপাকীয় শক্তি এবং অধিক আমিষ সমৃদ্ধ হতে হবে। ৬ নং টেবিলে এরূপ কয়েকটি মিশ্রন প্রদান করা হলো।
ভেড়ার বাচ্চা ১-২সপ্তাহ বয়স পযর্মত শুধু দুধ খায়। এ সময় তাদের পানির চাহিদা দুধের মাধ্যমেই মেটে। তবে ৩-৪ মাস বয়সে যখন আস্তে আস্তে দানাদার খাদ্য, লতা পাতা খেতে শুরু করে এ সময় থেকে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ভেদে ভেড়ার
টেবিল ৬ঃ ভেড়ার বাচ্চার সম্ভাব্য কয়েকটি দানাদার খাদ্য মিশ্রন
উপাদান | মিশ্রন-১ | মিশ্রন-২ | মিশ্রন-৩ | মিশ্রন-৪ |
চাল ভাঙ্গা বা খুদ | ২৫.০ | - | - | - |
গম ভাঙ্গা | - | ৩০.০ | - | - |
ভুট্ট্রা ভাঙ্গা | - | - | ৩০.০ | ৩০.০ |
মাসকালাই/খেসারী ভাঙ্গা | ২৫.০ | ১৫.০ | ২০.০ | - |
ধইঞ্চা সিদ্ধ | - | - | - | ২০.০ |
গমের ভূষি/ঢেকি ছাটা কুড়া | ২৫.০ | ২৫.০ | ২৫.০ | ২৫.০ |
সয়াবিন খৈইল | ১৬.০ | ২০.০ | ১৫.০ | ২০.০ |
প্রোটিন কনসেনট্রেট | - | ২.০ | ২.০ | - |
ফিসমিল | ২.০ | - | - | ২.০ |
সয়াবিন তৈল | ১.০ | ১.০ | ১.০ | ১.০ |
চিটাগুড় | ৪.০ | ৫.০ | ৫.০ | - |
লবন | ১.০ | ১.০ | ১.০ | ১.০ |
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স | ০.৫ | ০.৫ | ০.৫ | ০.৫ |
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট | ০.৫ | ০.৫ | ০.৫ | ০.৫ |
বাচ্চা ২০০-৫০০ মি. লি. পর্যন্ত পানি প্রয়োজন। এ জন্য বাচ্চাকে পরিস্কার ও জীবানমুক্ত পানি সরবরাহ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর ভেড়ার বাচ্চার দৈনিক ৫০০-৭০০ মি. লি. পানির প্রয়োজন।
বাড়ন্ত ভেড়ার খাদ্য ব্যবস্থাপনা
বাড়ন্ত ভেড়া বলতে এখানে ৪-১৫ মাস বয়সী ভেড়াকে বুঝানো হচ্ছে। বস্ত্তত: এ সময়েই ভেড়ার মূল শারীরিক বৃদ্ধির সময়। এ সময়ে মাংস, উল বা প্রজননের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি ভেড়াকে না সরবরাহ করলে ভেড়া পালনের মুল লক্ষ্যই ব্যহত হবে। দুধ ছাড়ানো থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত ভেড়ার খাদ্য গ্রহন তথা পুষ্টি সরবরাহ কম থাকে। এ সময়ে বাচ্চা এক দিকে যেমন মা থেকে কোন পুষ্টি পায়না, অন্য দিকে নিজস্ব খাদ্য গ্রহনও কম থাকে। ফলে এ সময়ে ভেড়ার বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির হার কমে যায়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে ওজন বৃদ্ধি থেমেও যেতে পারে। আবার এ সময়ে বাচ্চা যদি কৃমি আক্রান্ত হয় তখন বাচ্চা মারাও যেতে পারে।
ক) বাড়ন্ত ভেড়ীকে (চার মাস থেকে প্রথম বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত) খাওয়ানো
বাড়ন্ত ভেড়ীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচা ঘাস, ইউএমএস, ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড়, শুকানো বা তাজা ডাল জাতীয় ঘাস যেমন-মাসকালাই, খেসারী, মসুরী ঘাস ইত্যাদি খাওয়ানো যায়। টেবিল-৭ এ বাড়ন্ত ভেড়ীর প্রয়োজনীয় পুষ্টির পরিমাণ দেয়া হলো।
টেবিল ৭ঃ বাড়ন্ত ভেড়ীকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের পরিমান
বয়স (মাস) | ওজন (কেজি) | দানাদার* (গ্রাম/দিন) | পাতা/ঘাস (গ্রাম/দিন) | খড়** (গ্রাম/দিন) | পানি (গ্রাম/দিন) | ||
৪ | ৮.০ | ২৫০ | ৪০০ | ১০০ | ৫০০ | ||
৫ | ৯.৩ | ৩০০ | ৫০০ | ১০০ | ৫০০ | ||
৬ | ১১.৫ | ৩০০ | ৫৫০ | ১০০ | ৫০০ | ||
৭ | ১৩.২ | ৩০০ | ৬২০ | ১০০ | ৫০০ | ||
গর্ভবতী*** | ৮ | ১৫.০ | ৩০০ | ৭৫০ | ১০০ | ৬০০ | |
৯ | ১৬.৮ | ৩০০ | ৮০০ | ১০০ | ৬০০ | ||
১০ | ১৮.৬ | ৩৫০ | ৮০০ | ১০০ | ৬০০ | ||
১১ | ২০.৪ | ৪০০ | ৮০০ | ১০০ | ৭০০ | ||
১২ | ২২.২ | ৪৫০ | ৮০০ | ১০০ | ৮০০ | ||
১৩ | ২২.২ | ৪৫০ | ৮০০ | ১০০ | ৮০০ | ||
গর্ভবতী | ১৪ | ২৩.০ | ৪৫০ | ৮০০ | ১০০ | ৮০০ | |
১৫ | ২৪.০ | ৪৫০ | ৮০০ | ১০০ | ৮০০ | ||
*ভুট্টা ভাঙ্গা - ১৫%, গমের ভূষি - ৪৫%, খেসারীর ভূষি - ১৫%, সয়াবিন খৈল - ২০%, ফিস মিল - ১.০%, ডিসিপি - ১.৪%, লবণ - ১%, ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স - ০.১%, বিপাকীয় শক্তি - ১০.৯২ মেঃ জুল/কেজি শুষ্ক পদার্থ, বিপাকীয় আমিষু ৬৭ গ্রাম/কেজি শুষ্ক পদার্থ।
** ইউএমএস বা ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড়
***বাড়ন্ত ভেড়ীকে সাধারণত ১৩-১৪ কেজি ওজনে অর্থাৎ ৭-৮ মাস বয়সে পাল দিতে হয়। এজন্য ১১-১২ মাস (গর্ভধারণের শেষ দুই মাস) কিছুটা বাড়তি দানাদার খাবার দিতে হয়। সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় পালা ভেড়ীকে পাল দেয়ার পর ১.৫ মিঃ লিঃ ভিটামিন এডি-৩ ই মাংসের মধ্যে দিতে হবে।
যে সব খামারী খামারে খেসারী, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল জাতীয় ঘাসের উৎপাদন করেন অথবা ভূট্রা বা নেপিয়ার ঘাসের সাইলেজ উৎপাদন করেন তাঁরা বাড়ন্ত ভেড়ীর জন্য নিম্নোক্ত টেবিল ৮ নং মোতাবেক খাদ্য সরবরাহ করতে পারেন।
টেবিল ৮ঃ ‘হে’ এবং সাইলেজের ভিত্তিতে বাড়ন্ত ভেড়ীর খাদ্য সরবরাহের পরিমান
উপাদান | বাড়ন্ত ভেড়ীর ওজন ১৫ কেজি | বাড়ন্ত ভেড়ীর ওজন ২০ কেজি | ||||
রেশন (গ্রাম প্রতিদিন) | রেশন (গ্রাম প্রতিদিন) | |||||
১ | ২ | ৩ | ১ | ২ | ৩ | |
ভুট্টা ভাঙ্গা | ১৭৫ | - | - | ২৩৫ | - | - |
ট্রিটিক্যালী (বন্য গম) | - | ১৭৫ | - | - | ২৩৫ | - |
চালের খুদ | - | - | ১৭৫ | - | - | ২৩৫ |
ডাল জাতীয় ঘাসের হে’ | ৫০০ | ৩৫০ | ৩৫০ | ৬৭০ | ৪৭৫ | ৪৭৫ |
নেপিয়ার/ভূট্রা ঘাসের সাইলেজ | - | ৫০০ | ৫০০ | - | ৬৭০ | ৬৭০ |
প্রাক্কলিত পুষ্টির পরিমাণ | ||||||
বিপাকীয় শক্তি (মেগাজুল) | ৫.৮৫ | ৬.০৬ | ৬.০৬ | ৭.৮৪ | ৮.১৮ | ৮.১৮ |
বিপাকীয় প্রোটিন (গ্রাম) | ৩৬ | ৩৭ | ৩৭ | ৪৮ | ৫০ | ৫০ |
· উপরোক্ত রেশনগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে খাদ্যোপাদানের পরিমানকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে সকালে ও বিকালে খাওয়াতে হবে।
· গ্রুপ ফিডিং এর ক্ষেত্রে প্রতিটি ভেড়ার জন্য ফিডারে কমপক্ষে ১২ ইঞ্চি বা ৩৮ সেঃ মিঃ ফিডিং স্পেস (খাওয়ার জায়গা) প্রয়োজন
· উপরোক্ত খাদ্যের সাথে একটি ভাল খনিজ মিশ্রন পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে।
প্রজনন কাজে ব্যবহৃত ভেড়ার পাঁঠাকে খাওয়ানো
প্রজনন কাজে ব্যবহৃত ভেড়ার পাঁঠাকে পর্যাপ্ত পরিমানে কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে। প্রজনন কাজে ব্যবহৃত ২৫-৩৫ কেজি ওজনের পাঁঠাকে দৈনিক ৩৫০-৫০০ গ্রাম প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হবে। তাছাড়া পাঁঠাকে দৈনিক প্রায় ১০ গ্রাম গাঁজানো অংকুরিত ছোলা খাওয়াতে হবে। কাঁচা ঘাসের পরিমান কম হলে বছরে অন্তত দুইবার ২-৩ মিঃ লিঃ ভিটামিন এডিই ইনজেকশন দিতে হবে। তবে পাঁঠাকে কখনোই অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত হতে দেয়া যাবে না। এতে পাঁঠার প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
প্রজননক্ষম ভেড়ীকে খাওয়ানো
বাংলাদেশে প্রাপ্ত ভেড়া সারা বছর প্রজননক্ষম থাকে। এরা বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবারে ২/৩ টি বাচ্চা দেয়। সাধারণত দেখা যায় একটি ভেড়া বাচ্চা দেয়ার এক মাসের মধ্যেই গরম হয়। এ সময় পাল দেয়া হলে তা গর্ভবতী হয়। ভেড়া সাধারণত প্রসব পরবর্তী তিন মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে দুধ দেয় অর্থাৎ এ সময় ভেড়ীকে দুধ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করতে হয়। তবে শেষের দিকে দুধের উৎপাদন কমে আসে। এই সময়ে ভেড়ী দুই মাসের গর্ববতী থাকে। গর্ভধারণের তৃতীয় মাস থেকে প্রসব পর্যন্ত ভেড়ীর গর্ভস্থ্য বাচ্চা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে উক্ত সময় গর্ভবতী ভেড়ীর পুষ্টি চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। কেবল প্রসব পরবর্তী তৃতীয় মাসে ভেড়ার পুষ্টির চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এছাড়া সারা বছরই ভেড়ীর জীবন ধারণ, দুধ উৎপাদন এবং প্রজননতথা বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ব্যাপক পুষ্টির চাহিদা থাকে। এই চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ হলে ভেড়ী যেমন নিয়মিত (অর্থাৎ বছরে দুইবার) বাচ্চা উৎপাদন করবে তেমনি বাচ্চার জন্মকালীন ওজনও বেশী হবে (১.৫-২.০ কেজি), পর্যাপ্ত দুধ পাবে ফলে বাচ্চার মৃতহ্যর হার কমে যাবে এবং বাচ্চা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ ভেড়া খামারের মূল উৎপাদনশীলতা তথা লাভ লোকশান বহুলাংশেই নির্ভর করে ভেড়ীর পুষ্টি ব্যবস্থাপনার উপর।
গর্ভবতী ভেড়ীকে খাওয়ানো
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভেড়ীর গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে (সাড়ে তিন মাস) তুলনামূলক ভাবে গর্ভধারণের জন্য কম পুষ্টির প্রয়োজন হলেও এ সময়ের প্রথম ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ভেড়ী বাচ্চার জন্য দুধ উৎপাদন করে। ফলে গর্ভধারণ ও দুধ উৎপাদনের জন্য মোট পুষ্টি চাহিদা বেশী থাকে। বাকি ৪ সপ্তাহ পুষ্টি সরবরাহ কম হলে ভেড়ীর স্বাস্থ্যহানী ঘটে। ফলে পরবর্তীতে দুধ উৎপাদন ও প্রজননে প্রভাব ফেলে। আবার শেষ ৯ সপ্তাহ ভেড়ীর পুষ্টি চাহিদা প্রচুর বেড়ে যায়।
চরে খাওয়া ভেড়ী
যদি ভেড়া চরে খায় এবং চারণ ভূমিতে পর্যাপ্ত ঘাস তথা পুষ্টি পায় তবে অন্য কিছুই না খাওয়ালেও চলবে। তবে বাংলাদেশের চারণভূমি সমূহে সাধারণত এমন পর্যাপ্ত পুষ্টি থাকে না যা গর্ভবতী ভেড়ীর পুষ্টি চাহিদা পুরাপুরি মেটাতে পারে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিপাকীয় শক্তি এবং প্রোটিন সরবরাহের জন্য টেবিল ৯ অনুসারে খাওয়ানো যেতে পারে।
টেবিল ৯ঃ চরে খাওয়া ২/৩ টি বাচ্চা বিশিষ্ট গর্ভবতী ভেড়ীর গর্ভধারণের শেষ ৯ (নয়) সপ্তাহে পুষ্টি ও খাদ্য সরবরাহ
ওজন | প্রয়োজনীয় * বিপাকীয় শক্তি (মেঃ জুল/দিন) | প্রয়োজনীয় বিপাকীয়/প্রোটিন (গ্রাম/দিন) | চরানোর সময় (ঘন্টা) | প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য** (গ্রাম/দিন) | ঘাস *** (কেজি/দিন) | পানি (লিঃ/দিন) |
২০ | ৮.৬১ | ৩৩ | ৬ | ১৫০ | ২.২৫ | ২.৮ |
২৫ | ৯.৫৪ | ৩৬ | ৬ | ১৭০ | ২.৪০ | ৩.৫ |
৩০ | ১০.৪২ | ৪০ | ৬ | ১৮৫ | ২.৬০ | ৪.৩ |
৩৫ | ১১.২৭ | ৪৪ | ৬ | ২০০ | ২.৮ | ৪.৯ |
৪০ | ১২.০৯ | ৪৭ | ৬ | ২১৫ | ৩.০ | ৫.২ |
* ধরা হয়েছে যে জীবন ধারণের জন্য ০.৪৫গঔ গঊ/শমড০.৭৫/ফ, ২.১৯ ম গচ/শমড০.৭৫/ফ, চরার জন্য ১০% অতিরিক্ত শক্তি এবং গর্ভধারণের জন্য ৭০০ গঔ গঊ/শমড০.৭৫/ফ এবং ৬.৬৩ ম গচ /শমড০.৭৫/ফ প্রয়োজন।
** দানাদার খাদ্যের মিশ্রণঃ খৈল (তিল, সরিষা, সয়াবিন, নারিকেল)-৫০%, কুড়া/ভূষি-৩৩%, চিটাগুড়-৫%, ইউরিয়া-৩%, ঝিনুকের গুড়া-৩%, ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট-৫%, ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স-১% (প্রতি কেজি উক্ত মিশ্রনে বিপাকীয় শক্তি ৯ মেগা জুল, ক্রড প্রোটিন ২৯%, ক্যালসিয়াম ৩.৩% এবং ফসফরাস ১.৮%।
*** তাজা ঘাসের বদলে সমপরিমান সাইলেজ অথবা উল্লেখিত ঘাসের পরিমানের অর্ধেক ইউএমএস দেয়া যেতে পারে। তবে ইউএমএস ব্যবহার করলে ভিটামিনের উৎস হিসাবে এ্যালজি খাওয়ানো উচিত।
ভেড়ার প্রজনন ব্যবস্থাপনা
ক) প্রজনন করার উপযুক্ত সময়
ভেড়ার প্রজনন করানোর উপযুক্ত বয়স নির্ভর করে এর জাত ও ওজনের উপর। গ্রীষ্ম মন্ডলীয় এলাকায় প্রাপ্ত ভেড়ার জাত সমূহ ৫-১২ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয়। এ দেশীয় ভেড়ী সাধারনত ৬-৮ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয়। এই সময় এদের ওজন ১২-১৩ কেজির মত হয়ে থাকে। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ভেড়ার পাঁঠা-বাচ্চা ৬-৯ মাসের মধ্যেই বয়ো:প্রাপ্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। তবে তাদেরকে ১২ মাস বয়সের আগে (কমপক্ষে ১৮-২০ কেজি) পাল দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। ১০-১২টি ভেড়ীর জন্য ১টি প্রজননক্ষম পাঠীই যথেষ্ট। একটি পাঠীকে তার প্রজননকালে ১০০-২০০ বারের বেশী প্রজনন করানো উচিৎ নয়। ভেড়ী উপযুক্ত দৈহিক ওজন না হওয়া পর্যন্ত পাল দেয়া ঠিক নয়। কারণ কম ওজনের ভেড়ী বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশী ভেড়ী যখন প্রথম বার গরম হয় তখন তাকে পাল না দেয়াই ভাল। এক্ষেত্রে ১/২ বার পাল বাদ দিতে হবে। পাল দেয়ার পূর্বে ভেড়ী ঠিকমত গরম হয়েছে কিনা তাহা পর্যবেক্ষন করা প্রয়োজন।
প্রজননের ভেড়া নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়ঃ
· ভেড়া (পাঁঠা) নির্বাচনের সময় টেবিল ২৪ এ বর্ণিত স্কোর কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভেড়ার পাঠাকে ৬০ বা এর বেশী নম্বর পেতে হবে।
· নির্বাচনের সময় ভেড়ার পাঁঠার বয়স ১২-১৪ মাস (প্রথম জোড়া স্থায়ী দাঁত যুক্ত) বয়সী হতে হবে।
· নির্বাচিত ভেড়ার অধিক উৎপাদনশীল বংশের আকারে বড় ও শৌর্য্য বীর্যশীল হওয়া উচিত (চিত্র ৭৫)
· অন্ডকোষ সুগঠিত এবং পিছনের পা সুঠাম ও শক্তিশালী হতে হবে।
· নির্বাচিত ভেড়ার মা, দাদী এবং নানীকে বছরে দুইবার, প্রতিবারে (৭৫% ক্ষেত্রে) কমপক্ষে ২টি করে বাচ্চা দিতে হবে।
· নির্বাচিত ভেড়ার মা, দাদী ও নানীর বাচ্চা মৃত্যুর হার ৫% এর নিচে হতে হবে।
· নির্বাচিত ভেড়া যৌন রোগ (বিশেষত: ব্রুসেলোসিস) সহ সকল প্রকার রোগ মুক্ত হতে হবে।
ভেড়ী নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়ঃ
q ভেড়ী নির্বাচনে টেবিল ২৫ এ বর্ণিত স্কোর কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ৬০ বা এর অধিক নাম্বার প্রাপ্ত ভেড়ীকে বাছাই করা যেতে পারে।
q নির্বাচনের সময় ভেড়ীর বয়স ৯-১৩ মাসের মধ্যে হওয়া উচিত।
q নির্বাচিত ভেড়ী অধিক উৎপাদনশীল বংশের, আকারে বড়, আর্কষণীয় গঠনের হতে হবে (চিত্র ৭৬)
q নির্বাচিত ভেড়ীর মা, দাদী ও নানীর বছরে ২ বার এবং প্রতিবারে নূন্যতম ২টি বাচ্চা দিতে হবে।
q নির্বাচিত ভেড়ীর মা, দাদী বা নানীর বাচ্চা মৃত্যুর হার ৫% এর নিচে থাকতে হবে।
q নির্বাচিত ভেড়ী কিছুটা ত্রিকোনাকৃতি, পা সামঞ্জস্যপূর্ণ, ওলান অধিক দুধ ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন, বাঁট সামঞ্জস্যপূণ,র্ কিছুটা ভিতরের দিকে বাঁকানো।
q নির্বাচিত ভেড়ীর পেট তুলনামূলক বড়, পাঁজরে হাঁড় সম্প্রসারণশীল। দুই পাঁজরের হাঁড়ের মাঝে কম পক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁক হবে। এতে ভেড়ী পর্যাপ্ত আঁশ জাতীয় খাবার এবং দুই বা ততোধিক বাচ্চা ধারণ করতে পারবে।
খ) ভেড়ীর গরম হওয়ার লক্ষণ সমূহ
q ভেড়ী গরম হলে সোজা ভাবে দাড়িয়ে থাকে, লেজ বাঁকিয়ে রাখে এবং ঘন ঘন লেজ নাড়ে।
q ভেড়ীর যোনীদ্বার লাল ও ফোলা হবে এবং যোনীদ্বার দিয়ে সাদাটে মিউকাস বের হবে।
q ভেড়ীর খাওয়া দাওয়া কমে যায়, ডাকাডাকি করে ।
q গরম হওয়া ভেড়ী ভেড়ার পাঁঠার গা ঘেসে অবস্থান করে।
q অন্যান্য প্রজাতি যেমন ছাগী অন্য ছাগীর উপর লাফ দেয় কিন্ত ভেড়ার ক্ষেত্রে তা সাধারণতঃ দেখা যায় না।
ভেড়ী গরম হওয়ার ১২ ঘন্টা পর অর্থাৎ সকালে গরম হলে বিকেলে এবং বিকেলে গরম হলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।
গ) প্রসবের সময় ভেড়ী ও বাচ্চার যত্ন
q প্রসবের সাথে সাথে বাচ্চার সমস্ত শরীরে বিশেষত নাকে শ্লেস্মা সরিয়ে নাকের মধ্যে ফু দিয়ে বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা করতে হবে।
q পায়ের খুর এবং নাভি কাটার (শরীর থেকে দুই আঙ্গুল নিচে) পর সেখানে টিংচার-অব-আয়োডিন দিয়ে মুছে দিতে হবে।
q বাচ্চাকে মায়ের সামনে রাখতে হবে যাতে মা সহজে বাচ্চাকে চেটে পরিস্কার করতে পারে। প্রয়োজনে শুকনো খড় বা গামছা দিয়েও বাচ্চাকে দ্রুত পরিস্কার করা যেতে পারে।
q দুই বা ততোধিক বাচ্চা প্রদানের ক্ষেত্রে মাকে প্রতিটি বাচ্চা প্রসবের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।
q বাচ্চাকে মোটামুটি পরিস্কার করে দ্রুত শাল দুধ খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি বাচ্চা যেন শালদুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
q শীতকালে যখন তাপমাত্রা ২০০ সেঃ এর নিচে থাকে অথবা বাচ্চা যদি শীতে কাঁপতে থাকে তখন বাচ্চাকে সাথে সাথে উষ্ণ স্থানে (তাপমাত্রা ৩০০ সেঃ) বা রোদে রেখে গরম করতে হবে।
q বাচ্চা প্রসবের পর ভেড়ীকে স্যালাইন গোলানো পানি (প্রতিলিটার পানিতে ২০ গ্রাম চিটাগুড় এবং ২ গ্রাম লবন) ২-৩ লিটার হারে পান করতে দিতে হবে। ভেড়ীকে এ সময়ে জাউসহ ভাল ঘাস সরবরাহ করতে হবে।
ভেড়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
সুস্থ্য ভেড়া লাভজনক খামার পরিচালনার পূর্ব শর্ত। রোগের কারণে বিভিন্নভাবে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগাক্রান্ত ভেড়ার দৈহিক বৃদ্ধি, বাচচা ও দুধ উৎপাদন কম হয়। এই জন্য ভেড়ার খামারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভেড়ার অসুসহ্যতা নির্ণয়ের পূর্বে সুসহ্য ভেড়ার কি লক্ষণ হবে তা জানা উচিত।
ক) ভেড়ার সুসহ্যতার লক্ষণ সমূহ
· ভেড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। সাধারণত: পালের একটি ভেড়া যে দিকে চলে দলের অন্য ভেড়া তাকে অনুসরণ করে। সুস্থ্য ভেড়া এক মনে খাদ্য গ্রহণ করে।
· সুস্থ্য ভেড়ার মাথা শরীরের সাথে সমান্তরালভাবে থাকে এবং সবসময় সাবলীল ভঙ্গিতে চলাফেরা করে। কোন আগমতুক এলে সাবলীল ভঙ্গিমায় মাথা উঁচু করে তাকাবে এবং কিছুক্ষণ পর পূণ:রায় খাদ্য গ্রহণ শুরু করবে।
· নাক এবং চোখ পরিচছন্ন থাকবে এতে কোন ময়লা থাকবে না। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পালিত সুস্থ্য ভেড়ার চামড়া বিশেষ করে যে সকল অংশ পশমে আবৃত নয় সে সকল অংশ উজ্জ্বল নরম থাকে।
· এদের পাগুলি শক্ত ও সুঠাম গড়নের হবে। কোন রকম খুঁড়িয়ে চলবে না। সুস্থ্য ভেড়ার পায়খানা দানাদার হবে এবং পায়ু অঞ্চল পরিচছন্ন থাকবে। প্রশ্রাবের রং থাকবে শুকনা খড়ের রংয়ের মত। দুধের বাঁট এবং ওলান নরম ও স্পঞ্জের মত হবে। বাঁটে বা ওলানে কোন দানা বা শক্ত কিছু থাকবে না।
· একটি সুস্থ্য ভেড়ার স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে নাড়ী স্পন্দন এর হার ৭০-৯০, শ্বাস প্রশ্বাসের হার প্রতি মিনিট ১০-২০ এবং দেহের তাপমাত্রা ৩৯০ সেঃ বা ১০২০ ফাঃ হয়ে থাকে।
· চোখে বা মুখের ভিতরের মিউকাস মেমব্রন সব সময় উজ্জ্বল থাকবে, অতিরিক্ত লাল বা ফ্যাকাসে অবস্থা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। ভেড়ার পেটের স্পন্দন (Rumen movement) স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ৫ মিনিটে ৫-৭ বার হয়ে থাকে।
খ) ভেড়ার অসুস্থ্যতার লক্ষণ সমূহ
· ভেড়ার অসু্সহ্যবসহাকে সাধারনভাবে রোগ বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে সম্পুর্ন শরীর অথবা কোন অঙ্গের যে কোন পরিবর্তন যা দেহের স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ঘটায় তাই রোগ। দেহের স্বাভাবিক কাজ কর্মের পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
· বিভিন্ন কারনে রোগ হতে পারে। খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রধান কারণ ধকল (Stress)। ধকলের কারণ সাধারণত: অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম, অপর্যাপ্ত বায়ু প্রবাহ, স্থানের তুলনায় অধিক ভেড়ার ঘনত্ব, অপর্যাপ্ত খাদ্য এবং পানি।
· কখনো কখনো অতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগের ফলেও ভেড়া অসুসহ্য হতে পারে। এ সবের কারণে পশু দূর্বল হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই রোগাক্রান্ত হয়।
· এছাড়াও কোন কোন রোগ ভেড়ায় অন্য রোগ হওয়ার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে। যেমন কৃমি, যা পশুকে ধীরে ধীরে দূর্বল করার মাধ্যমে অন্য সংক্রামক রোগাক্রমনের ক্ষেত্র প্রস্ত্তত করে থাকে।
· ভেড়া অসুস্থ্য হলে অন্য ভেড়ার সাথে চলাফেরা বা খাদ্য গ্রহণ না করে এককভাবে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকে। কেউ কাছে গেলে, এলোমেলোভাবে এদিক ওদিক দৌঁড় দেয়।
ভেড়ার রোগ প্রতিরোধ
ভেড়া আশেপাশের পরিবেশ হতে অনবরত বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ সময় ভেড়া এই সকল জীবাণুর আক্রমন থেকে রক্ষা পায়। যদি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিকর জীবাণু প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয় তখন ভেড়া রোগাক্রান্ত হয়। অতএব ভেড়াকে সুসহ্য রাখতে হলে খামারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রাখতে হবে।
ক) টিকা প্রদানঃ
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে টিকা প্রয়োগ করে ভেড়াকে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের আক্রমন থেকে রক্ষা করা যায়। টেবিল ১০ এ বিভিন্ন বয়সী ভেড়ার টিকা প্রদান কর্মসূচী প্রদান করা হল। প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার পর প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর অন্তর বুস্টার ডোজ হিসেবে ক্ষুরা রোগ এবং এন্টেরোটক্সিমিয়া রোগের টিকা দিতে হবে। ভেড়া যদি ২ বৎসরের অধিক সময় ধরে পালে থাকে তবে ২.৫ বছর বয়সে প্রথমে পিপিআর এবং এর এক মাস পর শীপ-পক্স টিকা দিতে হবে। যেহেতু একদিনে একই বয়সের অনেক ভেড়া পাওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এই সকল টিকার একক ডোজ হিসাবে পাওয়া যায় না সেজন্য বর্ণিত কর্মসূচীটির টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভেড়ার বয়স (একথাইমা ব্যতিত) ১ মাস পর্যন্ত আগ পিছ করা যেতে পারে।
টেবিল ১০ঃ ভেড়ার বিভিন্ন বয়সে টিকা প্রদানের ছক
রোগ | ৩য় দিন | ১০-১৪ দিন | ৩ মাস | ৪ মাস | ৫ মাস | ৬ মাস |
একথাইমা | ১ম ডোজ | ২য় ডোজ |
|
|
|
|
ক্ষুরা রোগ |
|
| ১ম ডোজ (পলিভ্যালেন্ট টিকা) |
|
|
|
শীপ-পক্স |
|
|
|
| ১ম ডোজ |
|
এন্টারোটক্সিমিয়া |
|
|
|
|
| ১ম ডোজ |
খ)কৃমি নাশক ঔষধ প্রয়োগ
কৃমি ভেড়ার শরীরে পুষ্টি শুষে ভেড়াকে দূর্বল করে দেয়। এক গবেষনায় দেখা গেছে ভেড়ার মোট সরবরাহকৃত পুষ্টির বিশেষত প্রোটিনের ২০ শতাংশ কৃমি শুষে নেয় এবং মিউকাস আকারে প্রোটিন শরীর থেকে বের (Protein Excretion) করে দেয়। এ ছাড়া ভেড়ার হজমেও এরা বাধা প্রদান করে থাকে। বহিঃ পরজীবি দেহের চামড়া ও পশমের মান নষ্ট করে এবং রক্ত শুষে নেয়। এজন্য নিয়মিতভাবে বর্ষা ও শীতের আগে দুই বার খামারে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন (Broad spectrum) কৃমিনাশক দিতে হবে।
গ) ডিপিং
বছরের বিভিন্ন সময়ে ভেড়া উকুন, আটালী, মায়াসিস, মেইঞ্জ ইত্যাদি বহিঃ পরজীবি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই সকল বহিঃ পরজীবি থেকে ভেড়াকে মুক্ত রাখার জন্য প্রতি মাসে নূন্যতম একবার ০.৫% ম্যালাথায়ন দ্রবণে (১০০ লিটার পানিতে ০.৫ লিটার মালাথায়ন) ডিপিং করাতে হবে। খামারে চর্ম রোগে আক্রান্ত কোন ভেড়া থাকলে তাকে আলাদাভাবে আইভারম্যাকটিন ইনজেকশন ০.৫ সিসি পরিমাণ চামড়ার নিচে দিতে হবে এবং ২-৩ দিন পর পর রোগ সারা না পর্যন্ত ম্যালাথিয়ন ডিপিং (গোসল) করতে হবে। আইভারম্যাকটিন জাতীয় ঔষধ প্রতি ছয় মাস অন্তর ভেড়ায় প্রয়োগে অন্ত ও বহিঃ পরজীবী নিয়ন্ত্রনে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ভেড়ার খামারের বায়ো-সিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা
বায়ো সিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা হল সমন্বিত কৌশল ও প্রয়াস যা খামারের ভেতরে বা আশেপাশে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর অনুপ্রবেশ, বিস্তার এবং ভেড়ায় কোন রকম সংক্রামন ঘটানো অথবা বিপদগ্রস্ত করা থেকে বিরত রাখে।
খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা
q খামারের চারিদিকে নিরাপদ বেষ্টনী দিতে হবে যেন খামারে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল সহ অন্যান্য পশু প্রবেশ করতে না পারে।
q আধুনিক পদ্ধতিতে ভেড়ার খামার করতে হলে খামারের এর সাথে গোসলখানা রাখতে হবে। কর্মচারীরা যখন খামারে প্রবেশ করবে তখন বাহিরের পোষাক রেখে, গোসল করে খামারের পোষাক ও জুতা পরে ভিতরে প্রবেশ করবে। খামার হতে বাহির হবার সময় খামারের পোষাক ও জুতা খুলে নিজের পোষাক পরে বাহিরে আসবে। যদি বাহিরের কোন লোক প্রবেশ করতে দিতেই হয় তবে নিয়ম অনুযায়ী গোসল করে খামারের পোষাক ও জুতা পরে খামারে প্রবেশ করবে।
q খামারের প্রবেশ পথে নিচু, পাকা মেঝে (ফুটবাথ) থাকতে হবে যেন সেখানে জীবাণুনাশক (যেমন: আয়োডিন দ্র্বন) মিশ্রিত পানি রাখা যায়। খাদ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি বহনকারী গাড়ীর চাকা জীবাণু মুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে । জীবাণুনাশকের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই নতুনভাবে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি রাখতে হবে।
q ছত্রাকযুক্ত খারাপ খাদ্য ভেড়াকে সরবরাহ করা যাবে না। তাই খাদ্যকে বেশী দিন মজুদ রাখা উচিত নয়। মাঝে মাঝে মজুদ খাদ্য পরীক্ষা করা উচিত ।
q খামারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ একটি আইসোলেশন সেড থাকতে হবে। এখানে খামারে আনা নতুন ভেড়া ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অসুস্থ্য ভেড়াকে পালের অন্য সুসহ্য ভেড়া থেকে দ্রুত আইসোলেশন শেডে সহানান্তর করতে হবে।
q খামার থেকে কিছুটা দুরত্বে, খামারের একপার্শ্বে খামার উৎপাদিত বর্জ্য নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যথায় যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেললে পরিবেশ নষ্ট হবে খামারে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটবে।
q প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ভেড়ার ঘর পরিস্কার করতে হবে। ভেড়ার খাদ্য ও পানি পরিস্কার এবং জীবাণুমুক্ত হতে হবে। মাঝে মাঝে খাদ্য ও পানির মান পরীক্ষা করতে হবে।
q বিভিন্ন বয়সের ভেড়ার জন্য পৃথক পৃথক ঘর বা কক্ষ থাকা উচিত। এতে বয়স্ক ভেড়া থেকে রোগ বাচচায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। রোগাক্রান্ত পাঠা, ছাগী প্রজনন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
q খামারের আশে পাশে যে সকল স্থানে সূর্যের আলো কম পড়ে অথবা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে ঐ সকল স্থানে ১০-১৫ দিন পর পর চুন প্রয়োগ করতে হবে। খামারের উন্মুক্ত সহানের মাটি বৎসরে একবার ওলটপালট করে দিতে হবে।
q মৃত ভেড়াকে দ্রুত পোস্টমর্টেম (যদি করা হয়) করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা গর্তে পুঁতে রাখতে হবে। গর্তে চুন/ব্লিচিং পাউডার দিয়ে মৃতদেহ ভালোভাবে মাটি দিয়ে চাপা দিতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিয়াল বা কুকুর এই মৃতদেহ খুঁজে না পায়।
ভেড়ার বাজারজাতকরণ
বাংলাদেশে প্রাপ্ত ভেড়া সমূহ প্রধানত মাংস উৎপাদনকারী। এদেশে ভেড়ার মাংস তেমন জনপ্রিয় নয় অথচ বিশ্বের সকল দেশেই ভেড়ার মাংস সমাদৃত । সাধারণত: এদেশে বাজারে ভেড়ার মাংসকে ছাগলের মাংস হিসাবেই চালিয়ে দেয়া হয় । এক হিসাবে দেখা যায় যে, মোট বিক্রিত ছাগলের মাংসের প্রায় ১০ শতাংশই প্রকৃত পক্ষে ভেড়ার মাংস ।
বাজারজাতকরণের সময়
সাধারণত: এদেশীয় প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়ার ওজন ২৫-৩০ কেজি। এই ওজনে পৌঁছাতে ভেড়ার প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। তবে উপযুক্ত খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরো কম সময়ে এই ওজনে পৌঁছানো যায়। উন্নত বিশ্বে সাধারণত: ভেড়াকে ১২ মাসের মধ্যেই জবাই করা হয়। এই ধরণের ভেড়ার মাংসকে ল্যাম্ব মিট বলে। উপযুক্ত খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনায় এক বছরের মধ্যে এ দেশীয় ভেড়া ১৭-২০ কেজি ওজনের হয় যা থেকে ৭.৫-৯.৫ কেজি মাংস উৎপাদিত হয়। সাধারণত: এক বছরের বেশী বয়স্ক ভেড়ার মধ্যে আনুপাতিক হারে চর্বির পরিমাণ বেশি। ফলে এক বছরের বেশী বয়স্ক ভেড়ার প্রতি কেজি মাংস উৎপাদনে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। এ সব বিবেচনায় ভেড়াকে ১৭-২০ কেজি অর্থাৎ ৯-১২ মাসের মধ্যে বাজারজাত করাই উত্তম।
বাজারজাতকরণ
এদেশে ভেড়ার বাজার ব্যবস্থাপণা অত্যন্ত সনাতন । সাধারণত: খামারীগণ স্থানীয় বাজারে পাইকার/বেপারীর নিকট ভেড়া বিক্রি করে। এরা (পাইকার/বেপারী) আবার দেশের বড় বড় শহরে কসাইদের কাছে এসব ভেড়া বিক্রি করে থাকে। এতে একদিকে খামারীগণ যেমন তাদের ভেড়ার উপযুক্ত মূল্য পায়না, অন্যদিকে ক্রেতাদেরকে অধিক দামে মাংস কিনতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ব ভোগী পাইকার/বেপারীররাই বেশি লাভবান হয়। বর্তমানে এদেশে সনাতনী ব্যবসহায় মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে অতি সম্প্রতি দু-একটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠিত হতে যাচে্ছ। এসব প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে কেন্দ্র করে বৃহদাকার বা ক্ষুদ্রাকার ভেড়া/ছাগল/গরু ফেটেনিং এর বাণিজ্যিক খামার স্থাপন করা যেতে পারে। তাছাড়া ক্ষুদ্র খামারীগণ সমবায় ভিত্তিক ভেড়া পালন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এক দিকে গরীব খামারীগণ যেমন উপকৃত হবেন তেমনি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পও তাদের প্রয়োজনীয় পশু সহজে সংগ্রহ করতে পারবেন।